Published : 21 Aug 2026, 05:16 PM
গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের মুখে কোনো শ্রমিকের ছাঁটাই যেন না হয়, সেই দাবিতে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির নেতারা সরকারের কাছে জরুরি নির্দেশনা চেয়েছেন। একই সাথে শিল্প খাতকে সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, শ্রম আইন কার্যকর করা এবং মজুরি বোর্ডের গঠন দাবি করেছেন তাঁরা। এই দাবিগুলো আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে পেশ করা হয়। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল পল্টন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভানেত্রী তাসলিমা আখতার এবং সহসভাপ্রধান নুরুল ইসলাম সভা পরিচালনা করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন শ্রমিকনেতা মিজানুর রহিম চৌধুরী, হযরত বিল্লাল, সাবিনা আক্তার, মামুন ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলিফ দেওয়ান ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি সৈকত আরিফ সংহতি জানান।
বক্তারা তুলে ধরেন যে গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী দুই বছরে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পোশাক শ্রমিক এবং শিল্প খাত এক ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং প্রায় চল্লিশ হাজার শ্রমিক কর্মহীন অবস্থায় দিশেহারা। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবের কারণে পোশাক শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনকেও দুর্বিষহ করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিক ও শিল্পের স্বার্থ রক্ষার্থে সরকারকে অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান তাঁরা। শ্রমিকনেতারা আরও জোর দিয়ে বলেন, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই যেন না হয়, তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি করা আবশ্যক। কর্মহীন শ্রমিকদের দ্রুত কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা না করলে শ্রম ও শিল্প খাত মারাত্মক বিপদে পড়বে। সভানেত্রী তাসলিমা আখতার বলেন, চলতি বছরে শ্রম আইনের কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন শ্রমিকের অধিকারকে শক্তিশালী করেছে। কিন্তু এই আইনগুলো কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে কার্যকর করতে হলে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
শ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা আরও মনে করিয়ে দেন যে, গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন কমে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকেরা। তাই শিল্প ও শ্রমিকদের স্বার্থে এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। শিল্পের অব্যবস্থাপনা বা জ্বালানি সংকটের বোঝা শ্রমিকের ওপর চাপিয়ে ছাঁটাই করা বন্ধ করতে হবে এবং শ্রমিককে রক্ষা করেই শিল্পকে রক্ষা করতে হবে। শ্রমিকনেতারা আরও দাবি করেন যে, শ্রম আইন সংশোধন করে ন্যূনতম মজুরি প্রতি তিন বছর পরপর পুনর্নির্ধারণের বিধান থাকা উচিত, যাতে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়মিত বিবেচনা করে মজুরি নির্ধারণ করা যায়। এই লক্ষ্যে অবিলম্বে একটি ন্যায্য মজুরি বোর্ড গঠন এবং ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানান তাঁরা।।
গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন অব্যাহত: কারখানা বন্ধ নয়, ছুটি সমন্বয় হচ্ছে—বিজিএমইএ বার্তা